উৎকন্ঠা
##উৎকন্ঠা##
--------------------
বিষন্নতার রং কি ধূসর, নন্দিনী?
তোমাকে যত কথাই বলি,
সে কথা তোমার কান পর্যন্ত পৌঁছয় না জানি,
মন তো অনেক দূরের পথ!
তবুও বলি;
বলার অভ্যাসে বলি,
অভ্যাস কি বিষন্নতার প্রতিরূপ, নন্দিনী?
বয়স যখন ষোল,
স্কুলে,কলেজে, পাড়ায় হা হা করে
বইছে ঝোড়ো বাতাস।
আর সেই বাতাসের ঝাপটায়
মানুষের নাম মুছে যেত বারবার,
খবরে থাকতো লাশের সংখ্যাতত্ত্ব।।
তবুও বিশ্বাস ছিল, প্রেম ছিল।
এক দিগন্ত বিস্তৃত অকূল সমুদ্রে জোর করে নৌকো সোজা রাখার তাগিদ ছিল।
আশা ছিল সময় বদলাবে।
সময় বদলেছে।
'বিশ্বাস' নাম বদলে 'বিশ্বস্ততা' হয়েছে।
'আশা' এখন সরকারি প্রকল্প।
আর প্রেম?
ভাঙ্গা মন্দিরের গায়ে জড়িয়ে বেড়ে ওঠা অশ্বত্থের মতো।
সে কারো কাছে মন্দির,
আর কারো কাছে বিপন্নতার প্রতীক।।
তবুও প্রেম দরকার,নন্দিনী।
তোমার সঙ্গে কথা বলার পরে,
আমার কবিতা লিখতে ইচ্ছে করে
আবারও মনে হয় যে সময় বদলাবে,
নিত্যদিনের দেখাশোনা করা পাতার আড়ালে,
হঠাৎ করে ঝিলিক দেবে সোনালী রোদ্দুর।
নিতান্ত অচেনার মত।
যেমন সব প্রেমে হয়ে থাকে।।
এই দুর্বিষহ সংশয় মুহূর্তে,
চারিদিকে যখন লোভ,ক্ষমতা আর
টাকার আঁশটে গন্ধ,
স্নিগ্ধ সমীরণের মত, শ্বেত চন্দনের প্রলেপের মতো প্রেম আসুক সকল খন্ডিত হৃদয়ে।
অঝোরে ঝরুক সব উৎকণ্ঠাকে ধুইয়ে দিয়ে।
তোমার সঙ্গে আরো আগে দেখা হ'ল না কেন নন্দিনী?
©®
Comments
Post a Comment