Posts

Showing posts from March, 2024

ভাষার সঙ্কট

 4) ভাষার সঙ্কট ---------------- ফেসবুকের কল্যাণে এই মাত্র 'মানুষত্য' বলে একটা নতুন শব্দবন্ধ পেলাম। সামনেই একুশে ফেব্রুয়ারি। ১৯৫২র ভাষা শহীদদের স্মরণে ফেসবুকে অনেক লেখালেখি হবে। তার ওপর এখন এটি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস। তাই ভাষা নিয়ে লেখালেখির 'সুনামি' আসছে। কবে কোথায় যেন পড়েছিলাম বাংলা ভাষা পৃথিবীর প্রথম সাতটি ভাষার মধ্যে জায়গা করে নিয়েছে। অবশ্যই 'বাংলাদেশ' তৈরি হবার পরে বাংলাভাষার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি বেড়েছে। কিন্তু এপার বাংলায় একটা প্রাদেশিক রাজ্যের ভাষা হবার জন্য হিন্দি এবং অন্যান্য রাজ্যের ভাষা ও সংস্কৃতি আমাদের সংস্কৃতিতে ব্যাপক প্রভাব ফেলতে শুরু করেছে। শ্যামা পূজা দিওয়ালি হয়েছে,দোল খেলা হোলি খেলা হয়েছে,গণেশ পূজা এবং ধনতেরাসে ধন সংগ্রহের উৎসাহ, দুই ই বারোয়ারি হয়েছে। সে পুজো, উৎসব যার যার নিজস্ব ব্যাপার। সে নিয়ে আলোচনা থাক। কিন্তু আমাদের রোজকার জীবনে কথ্য বা লেখ্য ভাষার এই ক্রমাবনতি অত্যন্ত পীড়াদায়ক। বিশেষত এই সময়ে যখন গল্প,কবিতা, উপন্যাস লেখকের সংখ্যা পাঠকের চাইতে বেশি হয়ে যাচ্ছে।অধিকাংশই নিতান্ত জোলো লেখা। কিছু লেখা আবার এদি...

নীল খাম

 3) নীল খাম ------------- 'অমি' চলে গেছে এক বছর হয়ে গেল। এক তীব্র শীতের রাতে, এক তীক্ষ্ণ শীৎকারেতে, এক জটিল মুমূর্ষাতে, রাত শেষ হলে হঠাৎ করেই সে গেছে চলে।। সেই মিলনের দিন মনে পড়ে গেলে, গন্তব্য ভুল হয়ে যায়, সমর্পণ অঙ্গীকার হয়ে যায়, ভালোবাসা কথাটাই মিথ্যা মনে হয়। "অমি তুমি কেন চলে গেলে?" গতকাল হঠাৎ তার চিঠি পেলাম। একটা নীল খামে ভরা ছোট্ট একটি কবিতা। "সুখে আছে যারা সুখে থাক তারা, সুখ সকলের সয়না, দুঃখ তো শুধু দুঃখ তো নয়, দুখই সুখের গয়না।। অনেক কষ্টে কেটেছে যে কাল উজানে নৌকা বাইতে, কষ্ট ভোলার চেষ্টা করেছি, পারিনি তবুও ভুলতে ।। দিনগুলো সব রাত হয়ে গেছে, রাতগুলো সব দিন, রোজের জীবনে ভারসাম্য, রাখা কি কঠিন।। তবু যতটুকু তোমার সঙ্গে, কাটাতে পেরেছি তায়, রেখেছি সে সব দিনগুলি মোর, মনের মণিকোঠায়।।" "অমিতা" ©®

খাঁড়ি

 2) # #খাঁড়ি ## --------------- এখন অচেনা দেশ অচেনা সময়, মিথ্যা কলরব শুধু,অর্থ বোঝা দায়। যদি বলো ওই ভিড়ে যেতে হবে; যাব, হাতটা ধরেই থেকো, নয়তো হারাবো।। কিছু দিতে নাই পারি যদি, আকাশ প্রদীপ হয়ে জ্বলি নিরবধি। তবু থেকো,হাত ধরে থেকো হাতটা তোমারি, শুধু এটা মনে রেখো।। যদি কিছু কথা বলি ঐ কানে কানে, কথারা হাওয়ায় ভেসে সুদূরে উধাও, আমিতো সাথেই আছি হাতেরই সে টানে, বিপ্রতীপে চোখ তুলে আকাশে তাকাও।। কথারা জলের মত, নদী হয়ে যায়, কখনো গভীর, কভু খাঁড়ি-তে লুকায়। লুকানো কথা কে নিয়ে এই বন-ছায়, হাতে হাত রেখে চলো হাঁটি পায় পায়।। ©®

মার্জিত অবসাদ

1)  # #মার্জিত অবসাদ## ------------------------------ সবকিছুতে শেষে থাকি। মন খারাপ হয়। নিজেকে একলা মনে হয়! নিরাবলম্ব,পরগাছা। কারোর কাছে আসতে চাই। কত কাছে ? যতটা কাছে এলে একজন অন্যজন হয়ে যায়? ভেবে দেখো । ভাবা দরকার! অতটা কাছে আসা অনেকটাই ঝুঁকি। তুমি আর তুমি থাকবে না। ছোটবেলার কথা মনে হয়। সবাই দল বেঁধে দাঁড়িয়ে আর আমি একটু দূরে একা। দয়া করে যদি কেউ খেলায় ডাকে, সেদিন খেলা হয়। নয়তো দূরে দাঁড়িয়ে কষ্ট পাই। কষ্ট পেয়ো না। দূরে থাকো। দূরত্ব ভালো। দেখতে পাওনা এই ব্রহ্মাণ্ডে সবকিছু কেমন দূরে দূরে থাকে! কিন্তু টেনে রাখে পরস্পর পরস্পরকে। জোৎস্না কোনদিন লোভনীয় হতো না, যদি চাঁদ রোজ একটু একটু করে পৃথিবীর ঘাড়ের উপরে এসে পড়তো। নিজের সঙ্গে নিজের এই কথোপকথন নতুন কিছু নয়। সবচেয়ে বেশি কথা আমরা নিজের সঙ্গেই বলি। নিজের মনে নিজের প্রতিপক্ষ তৈরি করি। তারপরে তার সঙ্গে ঝগড়া করি, মারামারি করি।ভালোবাসি,আদরে সোহাগে ভরিয়ে দিই নিজেকে নিজেই। নিজের এই প্রতিবিম্বিত সত্ত্বা আমরা দেখতে পাই না,কিন্তু অনুভব করি। আমার সব কিছু সত্য-- সে জানে। ...