ভাষার সঙ্কট
4)
ভাষার সঙ্কট
----------------
ফেসবুকের কল্যাণে এই মাত্র 'মানুষত্য' বলে একটা নতুন শব্দবন্ধ
পেলাম।
সামনেই একুশে ফেব্রুয়ারি। ১৯৫২র ভাষা শহীদদের স্মরণে ফেসবুকে অনেক
লেখালেখি হবে। তার ওপর এখন এটি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস। তাই ভাষা নিয়ে
লেখালেখির 'সুনামি' আসছে।
কবে কোথায় যেন পড়েছিলাম বাংলা ভাষা পৃথিবীর প্রথম সাতটি ভাষার
মধ্যে জায়গা করে নিয়েছে। অবশ্যই 'বাংলাদেশ' তৈরি হবার পরে বাংলাভাষার
আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি বেড়েছে।
কিন্তু এপার বাংলায় একটা প্রাদেশিক রাজ্যের ভাষা হবার জন্য হিন্দি
এবং অন্যান্য রাজ্যের ভাষা ও সংস্কৃতি আমাদের সংস্কৃতিতে ব্যাপক প্রভাব ফেলতে শুরু
করেছে। শ্যামা পূজা দিওয়ালি হয়েছে,দোল খেলা হোলি খেলা হয়েছে,গণেশ পূজা এবং
ধনতেরাসে ধন সংগ্রহের উৎসাহ, দুই ই বারোয়ারি হয়েছে।
সে পুজো, উৎসব যার যার নিজস্ব ব্যাপার। সে নিয়ে আলোচনা থাক।
কিন্তু আমাদের রোজকার জীবনে কথ্য বা লেখ্য ভাষার এই ক্রমাবনতি অত্যন্ত পীড়াদায়ক।
বিশেষত এই সময়ে যখন গল্প,কবিতা, উপন্যাস লেখকের সংখ্যা পাঠকের চাইতে বেশি হয়ে
যাচ্ছে।অধিকাংশই নিতান্ত জোলো লেখা। কিছু লেখা আবার এদিক ওদিক থেকে জোড়াতালি
দিয়ে লেখা বা একে ওকে তাকে দিয়ে লিখিয়ে নেওয়া। এটা এখন একটা শিল্পে পরিণত
হয়েছে। একটু ধৈর্য্য ধরে পড়লেই এই ধরনের অসততা ও তথাকথিত লেখকের দুর্বুদ্ধি বোঝা
যায়। ইংরেজিতে লিখলে তো আর কথাই নেই। নিম্নমানের লেখার এই বাণিজ্যিকীকরণ সেটাও
একটা বড় সমস্যা। কারণ যা কিছুই ছাপার অক্ষরে আসে সেগুলি সাধারণ মানুষ অভ্রান্ত
বলে ধরে নেন। তথাকথিত শিক্ষিত বাঙালিদের "আমরা সংস্কৃতিমনস্ক" -এই নাম
কেনার বিপজ্জনক প্রবণতা আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে অশিক্ষিত, দুর্বিনীত এবং নিজের
অশিক্ষাকে ঢাকার জন্য আরো রূঢ়,অমানবিক ও অপরিণামদর্শী হতে উৎসাহিত করবে।
ভালো বই খারাপ বই বাছুন এবং বই কিনে হোক লাইব্রেরীতে হোক বা বন্ধুর
থেকে নিয়ে হোক ভালো করে পড়ুন। যে যে শব্দের মানে বোঝা যাচ্ছে না তার জন্য অভিধান
খুলুন।না,গুগলের সাহায্য নেবেন না। ভুলে গিয়ে থাকলে ছোটদের বই থেকে আবার সন্ধি
পড়ুন, সমাস পড়ুন, বাংলা শব্দ ঠিক হচ্ছে কিনা দেখুন আর অলংকার সম্বন্ধে কিঞ্চিত
জ্ঞান আহরণ করুন।
আর বেশি লেখকের প্রয়োজন এই মুহূর্তে দেখছি না।
ভালো পাঠক বাড়ুক।
Comments
Post a Comment